Friday, September 30, 2022

Call +880 16306 80718

HomeBusinessইনভেস্ট ছাড়াই সফল উদ্যোক্তা হবেন কিভাবে?

ইনভেস্ট ছাড়াই সফল উদ্যোক্তা হবেন কিভাবে?

সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য আমাদের কিছু বিষয় ধারণা থাকা উচিৎ। আমি মূলত নতুন ফ্রীল্যান্সার অ্যান্ড একজন স্টুডেন্ট কিভাবে উদ্যোক্তা হতে পারে এর উপর লিখা লিখি করার চেষ্টা করব আজকে। যেমন আমরা অনেকেই মনে করি টাকা ছাড়া বিজনেস শুরু করা যায় না আবার অনেকেই ভাবি বিজনেস অনেক সহজ একটা বিষয় টাকা থাকলেই করা সম্ভব। আজকে আমি আলোচনা করব কিভাবে ইনভেস্ট ছাড়াই বিজনেস শুরু করা যায়। ইনভেস্ট ছাড়াই টাকা ইনকাম করেছেন অনেকেই উদ্যোক্তা হয়ে। আমাদের যেসব বিষয় জানতে হবে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য।

আপনি কি জানেন প্রোডাক্ট দুই ধরনের হয়?

ইনভেস্ট ছাড়া বিজনেস শুরু করতে হলে আমাকে আগে জানতে হবে ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট অ্যান্ড ডিজিটাল প্রোডাক্ট কি।

ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট কি?

আমাদের প্রতিদিন ব্যবহারের জিনিস পত্র ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট। ল্যাপটপ , ফোন, ঘড়ি, টি-শার্ট, জুতা, সাবান, তেল ইত্যাদি সব কিছুই ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট। আমরা যদি ফোন বা জুতা এর বিজনেস করতে চাই তাহলে আমাদের অর্থ এর প্রয়োজন। অর্থ ছাড়া ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট এর বিজনেস করা যায় না। এবং ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট নিয়ে বিজনেস শুরু করতে গেলে কিছু কমন সমস্যায় পড়তে হয়। বাকীতে বিক্রি করে টাকা নিয়ে ঝামেলা হয়। দাম নির্ধারণ করা কঠিন। হিসাব নিকাশ করতে হয় প্রতিদিন। প্রোডাক্ট এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যেতে পারে। প্রোডাক্ট নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ডিজিটাল প্রোডাক্ট কি?

ধরুন আপনি একটা ওয়েব সাইট তৈরি করে বিক্রি করে দিলেন ১০,০০০ টাকা দিয়ে। আপনার একটা ওয়েব সাইট তৈরি করতে কি প্রয়োজন? টাকা নাকি স্কিল? আবশই স্কিল থাকলেই হবে। আপনাকে শিখতে হবে কিভাবে একটা ওয়েবসাইট তৈরি করে। তাহলে আপনাকে হতে হবে ওয়েব ডিজাইনার। এখন যদি একটা অনলাইনে একটা বিজনেস দেন যেখানে আপনি একটা প্রোডাক্ট এর নাম দিলেন “বিজনেস ওয়েবসাইট ডিজাইন” অ্যান্ড দাম রাখলেন ১৫,০০০ হাজার টাকা।

ধরুন আপনি একজন ডিজিটাল মার্কেটার অ্যান্ড সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং, ভিডিও মার্কেটিং করে একটা অনলাইন কোম্পানির ৫০ লাখ টাকার প্রোডাক্ট বিক্রি করে দিলেন আপনাকে দিলো ৫০,০০০ হাজার টাকা। এখন ধরুন আপনি একটা বিজনেস শুরু করলেন। যেখানে আপনি প্রোডাক্ট এর নাম দিলেন “সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং” অ্যান্ড দাম রাখলেন ৫,০০০ টাকা। যদি কোন কোম্পানি আপনার এই প্রোডাক্ট টা কিনে তাহলে আপনি ওই কোম্পানির সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে দিবেন।

ধরুন আপনি লোগো ডিজাইন করে দিলেন একজনকে ২,০০০ টাকা দিয়ে। আপনার লোগো ডিজাইন করতে কিন্তু ইনভেস্ট করতে হয়নি।

তাহলে আমরা ডিজিটাল প্রোডাক্ট বলতে বুঝি যে প্রোডাক্ট গুলো মানুষের প্রয়োজন অ্যান্ড এই প্রোডাক্ট গুলো তৈরি করার জন্য আমাদের কে স্কিল অর্জন করতে হবে। ডিজিটাল প্রোডাক্ট হলঃ- সফটওয়্যার, অ্যাপ, মার্কেটিং কিট, লোগো ডিজাইন, স্টক ইমেজ, কপি রাইটিং, ই-বুক, ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট, ইত্যাদি। আমি আজকে আলোচনা করবো ডিজিটাল প্রোডাক্ট দিয়ে কিভাবে বিজনেস শুরু করবেন এবং সফল উদ্যোক্তা হবেন

ডিজিটাল প্রোডাক্ট দিয়ে বিজনেস শুরু করবেন কিভাবে?

নীচের ৬ টা স্টেপ দিয়ে আমরা ডিজিটাল প্রোডাক্ট এর বিজনেস শুরু করতে পারি

  • একটা স্কিল অর্জন করতে হবে
  • বিজনেস রিসার্চ করতে হবে
  • বিজনেস নাম সিলেক্ট করার জন্য রিসার্চ করতে হবে।
  • বেসিক ওয়ার্ডপ্রেস ডিজাইন শিখতে হবে।
  • মার্কেটিং শিখতে হবে।
একটা স্কিল অর্জন করবো কিভাবে?

আমাদের আগে একটু রিসার্চ করে নিতে হবে কোন কিছু শিখার আগে যে ওই স্কিল টা আমার মন এবং সমুয় এর সাতে অ্যাডজাস্ট হইতেছে কিনা। অনেকে সময় আমরা মানুষ এর ইনকাম বা সফল হওয়া দেখে তার স্কিল টাই অর্জন করতে চাই। এটা খারাপ না কিন্তু আপনাকে আগে দেখতে হবে যে এই স্কিল টা শিখার সময় আপনার সেটার প্রতি আগ্রহ বাড়তেছে নাকি কমতেছে। যে স্কিল দিয়ে আপনি সামনের দিন গুলো তে ইনকাম করার কথা ভাবছেন। সেই কাজ ভাল না লাগলে কাজের কোয়ালিটি ভাল হবে না। কাজের কোয়ালিটি ভাল না হলে আপনার প্রোডাক্ট বিক্রি হবে না। তাই নিজে নিজে ঠিক করতে হবে আপনি ডিজিট মার্কেটিং শিখবেন নাকি গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখবেন নাকি অন্য কিছু শিখবেন।

এক একজন মানুষের ভাল লাগা এক এক রকম। আমাদের যে কাজ টা ভাল লাগে করতে সেটাই শিখা উচিৎ। আর যদি কোন কাজেই ভাল না লাগে তাহলে আপনি একজন অলস 😁 আমার পছন্দের অ্যান্ড পপুলার স্কিল গুলো হলঃ- ওয়েব ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, কপি রাইটিং, ইত্যাদি। এই সব স্কিল থেকে আমাদের কে আগে একটা স্কিল শিখে নিতে হবে।

আমরা অনেকেই বিজনেস শুরু করে দেই বিজনেসের কৌশল না বুঝেই। আমরা যখন কোন বিজনেস শুরু করতে যাবো আমাদের কয় একটা বিষয় নিয়ে রিসার্চ করতে হবে।

কিভাবে বিজনেস রিসার্চ করবো?
  • আমি যে বিজনেস টা করতে চাইতেছে সেই বিজনেস টা মানুষ করার জন্য তাদের অনলাইন বিজনেস টা কিভাবে সেটউপ। তারা কি কি কৌশল অবলম্বন করে। তাদের থেকে নতুন ভাল কিছু আমার বিজনেসে এড করা যায় কিনা। এই সব নিয়ে আগে রিসার্চ করতে হবে ।
  • তারা কিভাবে কাস্টমারের সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখে। কিভাবে মার্কেটিং করে । হয়তো পুরোটা জানতে পারবেন না কিন্তু ধীরে ধীরে আপনাকে তাদের থেকেও ভাল সার্ভিস বা প্রোডাক্ট দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
  • প্রোডাক্ট এর মার্কেট প্রাইস জানা টানা খুবেই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি আমাদের সার্ভিস বা প্রোডাক্ট এর দাম না জানি তাহলে কখনো কম বলে ফেলব যা মার্কেট নষ্ট করে ফেলে আবার কখনো বেশি বলে ফেলব যা আমাদের প্রোডাক্ট বিক্রি কমিয়ে ফেলবে। তাই প্রোডাক্ট এর মার্কেট প্রাইস নিয়ে রিসার্চ করতে হবে।
  • বুঝার চেষ্টা করতে হবে আপনার প্রোডাক্ট কাদের প্রয়োজন। আপনি যদি না বুঝেন আপনার প্রোডাক্ট টা কাদের প্রয়োজন তাহলে আপনি আপনার প্রোডাক্ট মার্কেটিং সঠিক ভাবে করতে পারবেন না।
বিজনেস নাম সিলেক্ট করার জন্য রিসার্চ প্রয়োজন ?

অবশ্যই আপনাকে আপনার বিজনেস নাম নিয়ে রিসার্চ করতে হবে। সহজে মনে রাখা যায় অ্যান্ড আপনার সার্ভিসের সাথে মিল রাখে নামে খুজতে হবে। কীওয়ার্ড টার্গেট করে বিজনেস নামে দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

বেসিক ওয়ার্ডপ্রেস ডিজাইন শিখতে হবে।

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে মূলত ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়। আমরা চাইলে মানুষের কাছ থেকে নিজের ওয়েবসাইট ডিজাইন করে নিতে পারি কিন্তু আমাদের নিজের বেসিক জানা না থাকলে পরে আমাদের বিজনেস ম্যানেজমেন্ট করতে প্রবলেম হবে। তাই আমারা চেষ্টা করবো নিজে শিখে নিজের ওয়েবসাইট নিজে তৈরি করার। আমরা চাইলে ১৫-৩০ দিনে ওয়ার্ডপ্রেস বেসিক শিখতে পারব অনলাইন থেকে।

মার্কেটিং শিখতে হবে।

একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য আমাদের কে অবশ্যই মার্কেটিং শিখতে হবে। আমাদের কে শিখতে হবে কিভাবে মার্কেটিং করে আমাদের সার্ভিস বা ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি করবো। আমাদের কে শিখতে হবে কিভাবে তাদেরকে খুজে বাহির করবো। অনেকেই সফল হতে পারেনা মার্কেটিং এ সময় না দেওয়ার কারণে।

আমাদের বেসিক স্কিল কি কি থাকা প্রয়োজন উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য?

ইংলিশ– আমাদের যেহেতু বিজনেস অন্য দেশে বিক্রি করবো বা সার্ভিস দিবো তাই আমাদের অবশ্যই মোটামুটি ইংলিশ জানতে হবে।
ইমেইল– আমদের ইমেইল অ্যান্ড গুগলের কিছু প্রোডাক্ট ব্যাবহার করা শিখতে হবে। ইমেইল, গুগল ড্রাইভ, গুগল মিট, গুগল মাই বিজনেস ইত্যাদি সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকা উচিৎ।
ইন্টারনেট রিসার্চ– আমাদের গুগল থেকে কিভাবে রিসার্চ করে কোন সমস্যার সমাধান করা যায় তা শিখে নিতে হবে। এবং ধীরে ধীরে অনলাইন বিজনেস সম্পর্কে আমাদের আর জানতে হবে । কিভাবে ওয়েবসাইট রেংক করবেন কিয়াভাবে গুগল থেকে কাস্টমার পাওয়া যায় এই বিষয় গুলো নিয়ে ফ্রী সময় রিসার্চ করতে হবে। এভাবেই নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে তুলতে পারেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular